এম এ কাদির, সিলেট থেকে : সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সদস্য নাজমুস সালেহিন কয়েছকে দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
নাজমুস সালেহিন কয়েছ আওয়ামী স্বৈরশাসন আমলে বিএনপি অঙ্গসংগঠনের
দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশ গ্রহনের কারণে একাধিক মামলার আসামি হন। ২০২২ সালের একটি বিস্ফোরক মামলায় তাঁর ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড হয়েছে। ১১ আগস্ট ২০২৬ ইং
সিলেট জেলা ছাত্রদলের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কয়েছকে সাময়িক বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়। জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জুবের আহমেদ জুবের ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনার এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন সহ-দপ্তর সম্পাদক জয়নাল আবেদীন রাহেল।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক উপাদানাবলী আইনের (সংশোধনী ২০০২) ৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে নাজমুস সালেহিন কয়েছকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২০ জুলাই দক্ষিণ সুরমা থানার ১৫ নম্বর মামলার ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদলের ৫০ থেকে ৬০ জন নেতাকর্মীর একটি মিছিল থেকে চলাচলরত গাড়ি থামিয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয়। পুলিশ বাধা দিতে গেলে তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে কর্তব্যকাজে বাধা এবং হামলার অভিযোগ আনা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আবারও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও সাত থেকে আটটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দলীয় সূত্রের দাবি, বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তাদের অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের আমলে বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে কয়েছকে বিভিন্ন মামলায় আসামি করা হয়েছিল। মামলা ও পুলিশি হয়রানির মুখে তাঁকে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকতে হয় বলেও দলীয় সূত্র দাবি করেছে।
এদিকে নাজমুস সালেহিন কয়েছের বহিষ্কারাদেশ
স্থানীয় একাংশ নেতাকর্মী ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যহারের দাবী জানিয়েছেন।













