নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের বিশ্বনাথের রাজমিনা বেগম (২২) নামের তরুণীকে হত্যা করা হয়েছে-এমন অভিযোগ এনে এর সাথে জড়িত রুহুলসহ অন্যান্যদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৬ মে) বিশ্বনাথ পৌরশহরের বাসিয়া ব্রিজের উপরে ‘সচেতন এলাকাবাসী’র ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা, ‘অপেশাদার মন্তব্য’ এবং রাজমিনার পিতার স্বাক্ষর জাল করে অপমৃত্যু মামলা দায়েরের অভিযোগ করেন বক্তারা।
গত মাসের ২১ এপ্রিল নিখোঁজ হওয়ার চারদিন পর ২৫ এপ্রিল উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের পূর্ব কাউপুর গ্রামের ফরিদ আলীর বাড়ির পেছনের পুকুরপাড়ের জঙ্গলে বাউন্ডারি দেওয়ালের পাশে একটি ছোট করচ গাছ থেকে ওই গ্রামের কৃষক রশিদ আলীর মেয়ে রাজমিনার অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাৎক্ষণিক পরিবারের লোকজন অভিযোগ তুলেন, প্রতিবেশী রুহুল আমিন (২৬) ও তার পরিবারের লোকজন রাজমিনাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজমিনার চাচা আব্দুল আলী বলেন, ‘রাজমিনা হত্যার মূল রহস্য হল রুহুল আমিন। সে রাজমিনাকে অনেক বেশি উত্যক্ত করেছে। এ বিষয়ে মুরব্বীরাও অবগত আছেন। রাজমিনার লাশ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর আমার ভাই অর্থাৎ রাজমিনার পিতাকে জোরপূর্বক থানায় নিয়ে সাদা কাগজে তার স্বাক্ষর নেওয়ার পরে মেয়েটির মৃত্যুর ব্যাপারে ওসি সাহেব বলেন এটি আত্মহত্যা। তিনি কিভাবে জানলেন এটি আত্মহত্যা? এরপর, ওসি সাহেব লোক মারফত আমাদেরকে আশ্বাস দেন এ ঘটনায় মামলা নেবেন এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করবেন। কিন্তু, পরবর্তিতে সেই লোক মারফতই আবার জানান তিনি মামলা নেবেন না। আমরা যেনো কোর্টে মামলা করি। কোর্টে যেতে হলে ওসি সাহেব কেনো থানায় আছেন। তাহলে কি শুধু টাকা খাওয়ার জন্য তারা আছেন বিশ্বনাথে?’
বক্তব্যে রাজমিনার পিতা রশিদ আলী বলেন, ‘আমার মেয়ের লাশ উদ্ধারের পর থানায় মামলা করতে গেলে থানার এসআই জহিরুল ইসলাম আমাকে বলেন, ‘মেয়ে তো মরে গেছে, শেষ। আর কি? এটা নিয়ে এতো টানাটানি করছেন কেন?’ রশিদ আলী আরও বলেন, ‘কাউপুর গ্রামের ওয়ারিছ আলীর ছেলে রুহুল আমিনসহ (২৬) তার পরিবারের আরও ৩/৪ জন মিলে আমার মেয়ে রাজমিনাকে হত্যা করে গাছে ঝুঁলিয়ে রেখেছে। কিন্তু, লাশ উদ্ধারের দিন লাশ ময়না তদন্তের কথা বলে পুলিশ একটি সাদা কাগজে আমার স্বাক্ষর নেয়। পরে, আমার স্বাক্ষর জাল-জালিয়াতি করে অন্য কাগজে সেটি যুক্ত করে রাজমিনা আত্মহত্যা করেছে মর্মে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে পুলিশ। আমার মেয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে দারোগা-ওসি মামলা নেয়নি। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে শ্রীধরপুর গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুরমান খান বলেন, ‘রুহুল কিংবা তার পরিবারের সদস্যরা যদি রাজমিনা হত্যার সাথে জড়িত নাই থাকবে, তা হলে লাশ উদ্ধারের পরপরই তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেল কেন? রাজমিনার পরিবারকে ন্যায় বিচার পাইয়ে দিতে আমরা এলাকাবাসী বারবার থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করলেও পুলিশ আমাদের কথা আমলে নিচ্ছে না। কেনো নিচ্ছে না, তাও আমাদের কাছে স্পষ্ট। এ ঘটনায় মামলা না নিয়ে বরং মেয়ের বাবাকে এসআই জহিুরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেছেন, ‘মেয়ে তো মরে গেছে, শেষ। আর কি? এটা নিয়ে এতো টানাটানি করছেন কেন?’ এখন প্রশ্ন হচ্ছে, টাকার বস্তা নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে একজন কন্যাহারা বাবাকে এরকম বলা কতটুকু সঠিক?’
অভিযোগের বিষয়ে বিশ্বনাথ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নই। ওই ব্যক্তির সাথে আমার দেখাও হয়নি।’
অন্যদিকে, বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষর জালের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগটি সত্য নয়। আমি নিজেই ঘটনাটি তদন্ত করছি।’
শ্রীধরপুর গ্রামের যুবক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য তাজেক আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন রামপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আফিজ আলী, স্থানীয় সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য আঙ্গুরা বেগম, লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আবুল কালাম, উপজেলা মহিলা দল নেত্রী বিলকিছ আক্তার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য হেলাল আহমদ, বিশ্বনাথ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ টিপু।
বক্তারা অবিলম্বে ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং অভিযুক্ত রুহুল আমিনসহ দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। অন্যথায়, আরও শক্তিশালী আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।













