বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি:; সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় এক প্রবাসীর চাষযোগ্য জমিতে বাধা প্রদান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রবাসীর ভাইপো ও উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামের সব্দর আলীর ছেলে হেলাল মিয়া বিশ্বনাথ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৭৬৭, তাং-১৬.০৫.২০২৬) করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বল্লভপুর গ্রামের বাসিন্দা মনোহর আলী সপরিবারে যুক্তরাজ্যে বসবাস করায় দেশে থাকা তার স্থাবর সম্পত্তি দেখাশোনা করেন ভাইপো হেলাল মিয়া। প্রবাসীর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের মৃত আবদুল খালিকের ছেলে ও চান্দভরাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিলু মিয়া এবং তার লোকজনের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১২ মে মৌজা চান্দভরাং, জেএল নং-১০৩, খতিয়ান নং-১৩১৮ এবং দাগ নং-৩৫৮৬-এর আওতাভুক্ত জমিতে চাষাবাদের উদ্যোগ নিলে হেলাল মিয়াকে বাধা দেন জিলু মিয়া ও তার সহযোগীরা। এ সময় জমিটি নিজেদের দাবি করে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাধারণ ডায়েরিতে আরও বলা হয়, এর আগেও একই ধরনের ঘটনায় বল্লভপুর গ্রামের আরেক যুক্তরাজ্য প্রবাসী খালিছুর রহমানের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছিল। পরে আদালতের রায়ের মাধ্যমে তিনি তার স্বত্ব ফিরে পান।
হেলাল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় নিয়োজিত থাকলেও জিলু মিয়া বিভিন্ন অনিয়ম ও বিরোধপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়িত। সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আমার চাচার জমি নিজেদের দাবি করে চাষাবাদে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে তদন্তে আসা কর্মকর্তাদের সামনেও তিনি মারমুখী আচরণ করেন। এ বিষয়ে আমিসহ সংশ্লিষ্টরা থানায় অভিযোগ করেছি। পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে প্রসিকিউশন দাখিল করেছে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক জিলু মিয়া বলেন, “ওই জমির দলিল আমার বাবার নামে। ভুলবশত অন্যদের নামে রেকর্ড হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমি কোনো উগ্র আচরণ করিনি।”
বিশ্বনাথ থানার এএসআই সিরাজ মিয়া বলেন, “ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জিডির প্রসিকিউশন কেটে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।”













