বিশ্বনাথটুডে:: সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের বিশ্বনাথ উপজেলার কাজীবাড়ী এলাকায় সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জরুরি প্রতিরক্ষা কাজে বিঘ্ন সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ভাঙনকবলিত এলাকায় অবৈধভাবে বালুর স্তূপ করে রাখায় জনগুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কটি এখন চরম ঝুঁকির মুখে। এ অবস্থায় অবৈধ বালুর স্তূপ দ্রুত অপসারণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন ‘সচেতন এলাকাবাসী’।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সুরমা নদীর ভাঙন সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের একেবারে সন্নিকটে চলে এসেছে। সড়কটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ (বালুর বস্তা) ডাম্পিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল নদীর ঠিক পাড়েই অন্য স্থান থেকে বালু এনে বিশাল স্তূপ তৈরি করে রেখেছে।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, এই কৃত্রিম বালুর স্তূপের কারণে জিওব্যাগ ডাম্পিং করার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে, সরকারি কাজ চরমভাবে ধীরগতিতে চলছে। এছাড়া বৃষ্টির সময় স্তূপকৃত বালু ধুয়ে নদীতে পড়ায় পাড়ের নিচের মাটি আলগা হয়ে যাচ্ছে, যা ভাঙন প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করছে। মহাসড়কের কোল ঘেঁষে এই অতিরিক্ত ওজনের বালু রাখার ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) কাজীবাড়ী এলাকার ফয়ছল আহমদ, ওয়াতিউর রহমান আতিক, হুসাম উদ্দিন ও খায়রুল হুদাসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ সাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে এই অবৈধ বালুর স্তূপ দ্রুত অপসারণ না করলে মহাসড়কের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বালু উত্তোলনকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী চমক আলী বলেন, ‘আমি জেলা প্রশাসকের অনুমোদন অনুযায়ী বালু উত্তোলন করছি। নদীর কোনো ক্ষতি হয়-এমন কাজ করছি না। তাছাড়া, নদীর দুই পাড়ের জেলেদের সঙ্গে বৈঠক করে আমি ১০ দিনের জন্য বালু উত্তোলনে সহযোগিতা চেয়েছি, তারা আমাকে সে সুযোগ দিয়েছেন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমি এসিল্যান্ডকে জানিয়েছি। তিনি ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য লোক পাঠিয়েছেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’













