Search

বিশ্বনাথের রায়পুর গ্রামের বেহাল কাঁচা রাস্তায় হাজারো মানুষের দুর্ভোগ

​নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের রায়পুর-টিমাইঘর গ্রামের দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় চলাচলে প্রতিদিন চরম দুর্বিষহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন স্থানীয় শিক্ষার্থী, কৃষক, কর্মজীবী ও রোগীরা। কাদামাখা আর পিচ্ছিল পথই এখন তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ এই কাঁচা রাস্তাটিতে লাগেনি উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া। বর্ষা মৌসুম এলেই হাঁটু পরিমাণ কাদা আর জলাবদ্ধতায় পুরো রাস্তা চলাচলের একদম অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাজাঞ্চী ইউনিয়নের রায়পুর-টিমাইঘর এলাকার প্রধান রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। রাস্তার স্থানে স্থানে জমে আছে কাদা ও পানি। বাধ্য হয়ে পথচারী ও শিক্ষার্থীরা জুতা-স্যান্ডেল হাতে নিয়ে কাদা মাড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। কাদার গভীরতার কারণে রাস্তায় যেকোনো ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন এই একটিমাত্র রাস্তা ব্যবহার করে সাতের অধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন গ্রামের শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয় হাজী আরশদ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবদুস শহীদ বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি কাদায় ভরে যায়। তখন খুবই কষ্ট করে স্কুলে যেতে হয় আমাদের। রাস্তা পিচ্ছিল থাকায় প্রায়ই অনেক শিক্ষার্থী পড়ে গিয়ে আহত হন।’

​গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি নুরুজ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রাস্তা এমন বেহাল, জরুরি মুহূর্তে মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। গত শুকনো মৌসুমে এলাকার মানুষ নিজেরা চাঁদা তুলে রাস্তাটিতে মাটি ভরাট করেছিলেন। বর্তমান এমপির (তাহসিনা রুশদীর লুনা) কাছে আমাদের জোর দাবি, তিনি যেন রাস্তাটি দ্রুত পাকা করে দেন।’

খাজাঞ্চী ইউনিয়নের ১ নম্বার ওয়ার্ডের সদস্য ও রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সফিক মিয়া জানান, ‘রাস্তাটির ব্যাপারে আমি ব্যক্তিগতভাবে আমাদের এমপি মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি। ইতোমধ্যে, পাকাকরণের জন্য তাঁর কাছে লিখিত আবেদনও করেছি।’

​খাজাঞ্চী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তালুকদার মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘সিলেট-২ আসনজুড়ে আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনার উন্নয়ন কর্মকান্ড চলছে। এই রাস্তার বিষয় নিয়ে আমরা অচিরেই তাঁর সঙ্গে দেখা করব। আশা করছি, তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় বরাদ্দের ব্যবস্থা করবেন এবং রাস্তাটির পাকাকরণের কাজ শুরু হবে।’

উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই রাস্তাটির আইডি না থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সময় লাগবে। তবে, আইডি থাকলে রাস্তার উন্নয়ন কার্যক্রমে সুবিধা হবে।’

এ সম্পর্কিত আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত