Search

মশা মারতে ২২ লাখ খরচ, তবুও স্বস্তি নেই বিশ্বনাথে

সাইফুল ইসলাম বেগ :: মশা নিধনে এ পর্যন্ত বিশ্বনাথ পৌরসভার ব্যয় হয়েছে ২২ লাখ ৮ হাজার টাকা। এ বিপুল অর্থ খরচের পরও কমেনি মশার উপদ্রব। দিনদিন যেন তা আরও ধারণ করছে প্রকট আকার। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরবাসী। মশার প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশস্কাও বাড়ছে ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগের। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা যায়, পৌর এলাকার বাসা-বাড়ি, অফিসপাড়া থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-সবখানেই মশার উৎপাত অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এমনকি খোদ পৌরসভা অফিসেই ভনভন করছে মশা। একাধিক সরকারি দপ্তরে দিনের বেলাতেই কয়েল জ্বালিয়ে সারতে হচ্ছে কাজ। একই অবস্থা উপজেলা সমাজসেবা অফিস, বিশ্বনাথ থানা ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতেও। মশার কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বনাথ পৌরসভা অফিস সূত্র জানায়, পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ৫ বছরে মশক নিধনে ব্যয় হয়েছে ২২ লাখ ৮ হাজার টাকা। প্রতি বছরই, বছর ব্যাপী মশক নিধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কিন্তু ময়লা-আবর্জনা, পরিবেশ দূষণ আর ঝোপ-ঝাড়ের কারণে মশা কমছে না।

পৌরবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছরই এক-দুইবার দায়সারাভাবে মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে সরকারি অর্থ অপচয় ছাড়া তেমন কোনো সুফল মিলছে না। অভিযানগুলো মূলত অফিসপাড়া, বাজার কিংবা কিংবা কিছু ড্রেন পরিস্কারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। পুরো পৌর এলাকায় কার্যকরভাবে কোন উদ্যোগ চোখে পড়ে না।

পৌরশহরের বাসিন্দা ও বিশ্বনাথ পুরানবাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আহমদ মিয়া বলেন, ‘মশার যন্ত্রনা দিনদিন বাড়ছেই। মশা নিধনে নির্দিষ্ট সময় ও পদ্ধতি মেনে স্প্রে করা জরুরি হলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। ব্যবহৃত মেডিসিনের মান নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। বছর বছর অহেতুক অপচয় হচ্ছে সরকারি অর্থ।’

এ বিষয়ে কথা হলে বিশ্বনাথ পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, ‘যে হারে মশার উৎপাত, ঔষধ প্রয়োগের মাত্র একদিন পর অবস্থা আগেই মতোই হয়ে যায়। সমাজসেবা অফিসসহ বাজারের একটা অংশে উপদ্রব বেশি। আমাদের অফিসেও রোজ দিয়েও কিছু হয় না। সবাই যার যার চারপাশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে কিছুটা স্বস্তি মিলবে।’

এ সম্পর্কিত আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত