নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের বিশ্বনাথের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উত্তর বিশ্বনাথ দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রথমবারের মত গেট টুগেদার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩০ আগস্ট) দুপুর ৩টায় খাজাঞ্চী ইউনিয়নের ইয়াহ্ইয়া কনভেশন হলে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রাক্তন ছাত্র মো. গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে নাদিম জাহেদ ও আখলাকুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যে স্কুল জীবনের নানা স্মৃতিচারণ করেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন। তারা বলেন, উত্তর বিশ্বনাথ দ্বি-পাক্ষিক উচ্চবিদ্যালয় আমাদের উত্তর বিশ্বনাথের প্রাণ। এ অঞ্চলে বহু প্রজন্মকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেছে এ বিদ্যালয়। এখানকার ছাত্ররা আজ দেশে-বিদেশে অত্যন্ত সফলতার সাথে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছেন। অথচ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেলবন্ধনের কোনো সুযোগ হয়ে উঠছে না অর্ধশতবর্ষী এই বিদ্যায়তনের। এর ফলে, বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সাবেক শিক্ষার্থীরা সামর্থ্য থাকাসত্ত্বেও ভূমিকা রাখতে পারছেন না। বিদ্যালয়ের সাথে সাবেক শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার ফলে এখানে বারবার স্বার্থান্বেষী মহলের অনুপ্রবেশ ঘটেছে, যাদের নেতৃত্বে অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়া বানিয়ে ফেলা হয়েছে আমাদের সবার এই প্রিয় প্রতিষ্ঠানকে। বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহিদ খিজির স্যার মৃত্যুবরণ করলেও তার জন্য একটি স্মরণসভা আয়োজনের সৌজন্যতাও দেখাননি সে সময়ের স্কুল কর্তৃপক্ষ। সাবেক প্রধান শিক্ষক দরবেশ আলী স্যারের অবসরকালেও তাকে যথাযোগ্যভাবে বিদায় দেওয়া হয়নি বলেই প্রমাণ পাওয়া যায়। আমাদের শিক্ষকদের সম্মানে যথাযথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা আমাদের উপর তাদের অধিকার। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে আমরা তা করতে ব্যর্থ হয়েছি। সময় এসেছে একতাবদ্ধভাবে অনুষ্ঠানগুলো আয়োজন করার। এছাড়াও, কোন আয়োজন ছাড়াই পেরিয়ে গেছে স্কুলের পঞ্চাশ বছরে পদার্পনের ঐতিহাসিক সময়টুকু, নেওয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ। প্রাক্তন সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে বিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান আয়োজনও একান্ত জরুরি।
বক্তব্যে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, এতো ঐতিহ্যবাহী একটি বিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও ৫০ বছরে এর সাথে সকল এলাকার সংযোগ সড়ক পাকা না হওয়া এলাকাবাসীর তথা রাজনৈতিক নেতৃত্বের লজ্জা। সাবেক শিক্ষার্থীদের এখানে অনেক কিছুই করার আছে। যথাযথ জায়গায় যথাযথভাবে দাবি উত্থাপনের মাধ্যমে এই কাজ করিয়ে নেওয়ার মত বহু ছাত্রই এই বিদ্যালয় তৈরি করেছে গত অর্ধশত বছর ধরে। তাদেরকে একতাবদ্ধ করে এই কাজটিও অতি দ্রুত সম্পন্ন করা একান্ত প্রয়োজন। সাবেক শিক্ষার্থীদের নিবিড় সম্পর্কোন্নয়নের জন্য একটি কার্যকর এবং অংশগ্রহণমূলক এলামনাই এসোসিয়েশন গঠন এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংঘবদ্ধ ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিই পারে এই বিদ্যালয়কে বহিরাগত স্বার্থান্বেষী মহলের কবল থেকে রক্ষা করে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে।
পরে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একটা ‘রূপরেখা প্রণয়ন কমিটি’ গঠন করা হয়।













